মানবাধিকারের মুখোশে আ”গ্রা”সন: এ কি সংরক্ষণ, নাকি সর্ব’নাশা নজরদারি?

বাংলাদেশে তথাকথিত মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপন কোনো নিছক মানবিক উদ্যোগ নয়, বরং এটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক আ’গ্রা’সনের এক ন’গ্ন বহিঃপ্রকাশ!

এটি কোনো সাধারণ কমিশন নয়, বরং আমাদের সার্বভৌম অস্তিত্বের মূলে আ’ঘা’ত হা’নার এক সূক্ষ্ম চ’ক্রান্ত! বিশেষ করে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশের আবহমান ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামোর জন্য এটি এক মা’রা’ত্মক ও ভ’য়ং’কর হুম’কি।

শুনতে যতই উদার আর মানবতাবাদী লাগুক না কেন, এর অন্তরালে লুকিয়ে আছে গভীর চ’ক্রান্ত এবং নব্য উপনি’বেশ’বাদের এক জ’ঘন্য রূপ।

এর মাধ্যমে মূলত আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হস্তক্ষেপের পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে। একদিন তারা আমাদের পবিত্র ভূমি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় ও সামাজিক ইস্যুতে সরাসরি নাক গলাবে, আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে পদদলিত করবে।

নামেই কেবল ‘মানবাধিকার’, কিন্তু এদের আসল লক্ষ্য হলো—ইসলামী আইন, শরীয়াহ ভিত্তিক চিন্তা ও সংস্কৃতির মূলোৎপাটন! ‘জেন্ডার ইকুয়ালিটি’, ‘এলজিবিটিকিউ’, ‘মুক্তচিন্তা’—এইসব মনভোলানো বুলি আউড়ে তারা ইসলামের শাশ্বত শিক্ষাকে ‘অমানবিক’ ও ‘সেকেলে’ প্রমাণ করতে চায়।

এদের বি’ষা’ক্ত চোখে হিজাব হবে “মানবাধিকারের লঙ্ঘন”, আর কাফিরদের সঙ্গে আমাদের শরীয়াহসম্মত ভিন্ন আচরণকে দেখাবে “বৈষম্য” হিসেবে।

অদূর ভবিষ্যতে মাদরাসা, মসজিদ, ওয়াজ-মাহফিল—আমাদের দ্বীনি শিক্ষার এই প্রাণকেন্দ্রগুলোকেও তারা ‘সহিংসতা তৈরির আখড়া’ অপবাদ দিয়ে নজরদারির ভয়াল জালে আটকাতে চাইবে।

আমাদের তরুণ প্রজন্মকে দ্বীন থেকে বিচ্ছিন্ন করে ‘সেক্যুলার মানবতা’র নামে পশ্চিমা সংস্কৃতির পঙ্কিল ঘূর্ণাবর্তে নিমজ্জিত করার এই তাদের অপচেষ্টা!

একথা স্পষ্ট যে, একটি সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরে ভিনদেশি এই কমিশনের আগমন শুধু নৈতিক দাসত্বের দ্বার উন্মোচন নয়, বরং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক-সামরিক হস্তক্ষেপের বৈধতা তৈরির এক সুদূরপ্রসারী কৌশল!

মানবাধিকারই যদি তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হতো, তাহলে ইরাক-আফগানিস্তানে বর্বরতা চালাতো না! ফি”লি”স্তিনে নিরীহ মানুষের র”ক্তে হাত র”ঞ্জিত করত না, গা” জা” য় নিষ্পাপ শিশুদের গ” ণ” হ” ত্যায় মেতে উঠত না! তাদের তথাকথিত মানবাধিকারের মুখোশ আজ উন্মোচিত, তাদের ভণ্ডামি আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট!

মানবাধিকার অবশ্যই কাম্য, কিন্তু তা হবে ইসলামের শাশ্বত আলোয় আলোকিত। আমে”রি’কার প’ঙ্কিল ছায়াতলে নয়।

ইসলামই মানবাধিকারের চূড়ান্ত সংরক্ষক, ইসলামের পথেই নিহিত মানবজাতির প্রকৃত মুক্তি ও সম্মান!

✍️তানভীর হাসান আল আমিন

মুশরিফ, ইফতা বিভাগ

জামিয়া কুরআনিয়া বকচর মাদরাসা, যশোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *